আত্মত্যাগ
কিছু ডাক মনের কোণে জমে থাকা গভীর আবেগ থেকে বেরিয়ে আসে। সেই ডাকে কাউকে ডাকার সুযোগ না পেলে পৃথিবীতে নিজেকে সবচেয়ে বেশি অসহায় মনে হয়। আর এমনই একটি ডাক হচ্ছে “মা”। এ জগতের সকল মানুষই খোঁজে নিরাপদ একটা আশ্রয় ; যা দিতে পারে পৃথিবীতে মাত্র একজন, তিনি হচ্ছেন জন্মদাত্রী মা। তিনিই একমাত্র মানুষ যাকে চোখ বুঁজেও নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করা যায়, ভরসা করা যায়। যার সান্নিধ্যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ সুখটুকু হাতের মুঠোয় মনে হয়। মা হচ্ছেন এমন একজন মানুষ, যিনি হাজারো কষ্ট সহ্য করতে পারেন সন্তানের কথা ভেবে। তিনিই পারেন সকল ব্যথা ভুলে যেতে সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে। সন্তান যত বড় অপরাধই করুক না কেন, মা তাকে রক্ষা করার জন্যে নিজের সর্বোচ্চ শক্তিটুকু দিয়ে লড়াই করেন। সকলে দূরে ঠেলে দিলেও একমাত্র মা-ই থাকেন পাশে থাকার জন্য। তিনিই একমাত্র মানুষ যিনি নিজের অসুস্হতা ভুলেও সন্তানকে ভালো রাখার জন্যে কাজ করে যেতে পারেন অবিরাম। অথচ আফসোস, বড় হতে হতে আমরা ভুলে যেতে থাকি তার এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ!
আমরা সন্তানেরা প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো ভুল করি। মাকে কষ্ট দেই, অপমান করি। তারা বিনাবাক্যে সেটা মেনেও নেন। হয়তোবা আমাদের দৃষ্টির আড়ালে অশ্রু লুকান কিংবা রাতের আঁধারে নিঃশব্দে সেই অশ্রুর জলে বালিশ ভেজান। কখনোই তারা আমাদের কাছ থেকে বেশি কিছু চান না। শুধু এতটুকুই চান যে, তাদের সীমাহীন ভালোবাসার বিনিময়ে আমরা যেন তাদের সামান্য হলেও ভালোবাসা দেই। আর বৃদ্ধ বয়সে যেন তাদের শেষ আশ্রয়টুক দেই। তাদের এই স্বল্প চাওয়া কিন্তু আমরা একটু চেষ্টা করলেই পূরণ করতে পারি। আমাদের জন্যে তাদের নিজ জীবনের যতটা সুখ পরিত্যাগ করেন, যে পরম স্নেহে আমাদের আগলে রাখেন, তার প্রতিদান হাজার চেষ্টা করলেও আমরা দিতে পারবো না। বরং আমরা চেষ্টা করতে পারি তাদের প্রাপ্য ভালোবাসাটুকু দেবার, তাদের অপূর্ণ রয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর কিছুটা হলেও পূরণ করার। চেষ্টা করতে পারি তাদের চোখের জলের কারণটা শুধু আনন্দের হতে, গভীর বিষাদের নয়। চেষ্টা করতে পারি তাদের বেঁচে থাকাটা সার্থক করে তুলতে। আসলেই আমরা মন থেকে একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু পারি!
মা কোনো কারণে দূরে সরে গেলে তার প্রকৃত মর্ম বুঝা যায়। কিন্তু অনেক সময়ই এই উপলব্ধি আমাদের ভেতর আসতে বেশ দেরি হয়ে যায়। যার ফলে একটা সময় খুব করে চাইলেও আমরা হয়তো পারি না তার দীর্ঘদিনের চেপে রাখা কষ্টগুলো ভুলিয়ে দিতে। পারি না তার চোখের জল মুছে দিতে। পারি না তার জীবনের অপূর্ণতাগুলোকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দিতে। আর হাজার চেষ্টাতেও পারি না তার বুকের মাঝে স্বর্গীয় আশ্রয়টুকু খুঁজে নিতে।
তাই আমরা যেন আমাদের জীবনের সবচেয়ে আপন এই মানুষটিকে সময় থাকতেই তার প্রাপ্যটুকু দেবার চেষ্টা করি। নতুবা তিনি জীবন থেকে কোনো কারণে হারিয়ে গেলে এক বুক কষ্ট আর অপরাধবোধ আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন।

-
-
6 years
Tagged bangla, Bangladesh, blog, blogging, exploring