নামহীন ডায়েরি (পৃষ্ঠা-১)
কিছু মানুষের ভাষ্যমতে, ভালো থাকা খুব সহজ একটা বিষয়। আদৌ কি তাই? সবাই চেষ্টা করে ভালো থাকার। কিন্তু কজনের পক্ষে তা সম্ভব হয়? সবার জীবনেই কোনো না কোনো অপূর্ণতা বা অপ্রাপ্তির জায়গা থাকে। বর্তমান নিয়ে কাউকে খুব সুখী মনে হলেও, তার ভেতরে হয়তো একটা চাপা কষ্ট রয়ে গিয়েছে। যেটা হয়তো খুব বৃষ্টির দিনে, অলস মধ্যাহ্নে কিংবা নিঃসঙ্গ রাতে মনে পড়ে সবকিছু ওলটপালট করে দেয়। অজান্তেই বুক ফেটে কান্না বেরিয়ে আসে। বাস কিংবা ট্রেনের যাত্রায় জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখতে দেখতে হঠাৎই কারো অনুপস্থিতি বুকের ভেতর কেমন যেন চিনচিনে ব্যথা জাগিয়ে তোলে। হয়তো হুট নামানো রিকশায় সন্ধ্যে নামার আগে কানে হেডফোন গুঁজে কোথাও যেতে যেতে মনে পড়ে যায় পাশে বসে কেউ আঙুলের ফাঁকে আঙুল রেখে শক্ত করে ধরে রাখার কথা।
না পাওয়ার গল্প তো কতই থাকে! জীবনে অনেক কষ্টের পরেও হয়তো আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। খুব কাছের কেউ হয়তো পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিংবা কেউ বেঁচে থেকেও খুব দূরের কেউ আজ। সবচেয়ে বিশ্বস্ত মানুষটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রতারক হয়ে উঠেছে। বেকার জীবন, দরিদ্রতা, পরিবারে অশান্তি এমন অগণিত কষ্ট বুকে চেপে মিথ্যে সুখী চেহারা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের চারপাশের মানুষেরাই। কারো কারোটা হয়তো টের পাওয়া যায়। আর কিছু মানুষের সর্বদাই যেন চেষ্টা থাকে সেই কষ্টগুলো গোপন রাখার।
আচ্ছা, আমরা নিজেরাই যদি কারো কাছের হয়ে একসময় দূরে চলে না যাই; প্রতারকের মতো কারো বিশ্বাস ভাঙ্গার চেষ্টা না করি; নিজের স্বার্থের কথা ভেবে অন্যের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি না খেলি; তবে কি অনেক মানুষের জীবনে কষ্ট নামক বিষয়টার আর্বিভাব রুখতে পারতাম না?
প্রতারক তো আমরা, স্বার্থপর বিশ্বাসঘাতকও তো আমরাই। নিজেরা ঠিক থাকলে কি সেটা সবার ক্ষেত্রেই সবকিছু ঠিক রাখতো না?
ভালো থাকার চেষ্টা করতে করতে হঠাৎ করেই হয়তা টের পাবো, জীবনের শেষ সময়টায় পৌঁছে গিয়েছি। জীবনে কী পেলাম, আর কী পাইনি সে হিসেব করাটা তখন এতটা সহজ নয়। তবে শুধু আফসোসের সাথে একটা কথাই প্রতিমুহূর্তে মনে হবে, “এতটা প্রত্যাশা না থাকলেই হতো!”

Comments
Happy Birthday Nisa
Though your birthday is on 30.12.21 , I am just wishing it earlier.