আঁধারের গল্প (২)
এপ্রিলের সময় সেটা। বাইরে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি। ধানমন্ডির এক বাসার তিনতলার ফ্ল্যাটে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কারেন্ট চলে গিয়েছে বেশ আগেই। তবুও ঘরে আলো জ্বালায়নি কেউ। বাইরে থেকে তাই মনে হতে পারে ভেতরে কেউ নেই। এরকম ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতেই খোঁড়াতে খোঁড়াতে এক মেয়ে এসে সামনের দিকের বারান্দার গ্রিল দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়। বৃষ্টির ছাট এসে লাগে তার চোখেমুখে। ভেজা হাত দুটো এনে গাল স্পর্শ করে। জোরে বাতাস আসতেই বৃষ্টির ভারী ফোঁটা তাকে ভিজিয়ে দেয় অনেকখানি। মুখে ছিটকে লাগা জল গড়িয়ে পড়তে থাকে। তার চোখের বৃষ্টিও তখন আর বাধ মানে না। একই ধারায় প্রবাহিত হয়ে মিশে যায় বৃষ্টির জলে। হঠাৎই সে দুর্বল বোধ করে। কীসের এক যাতনা যেন তাকে কাবু করে নিতে চাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেলতে শুরু করে সে। তাই কোনোরকমে হেঁটে বারান্দার এক কোণায় ভেজা মেঝেতেই বসে পড়ে। শীতে গা কাঁপতে থাকে তার। ক্ষতের স্থানগুলোয় প্রচণ্ড জ্বালাবোধ হতে থাকে। ষোল বছরের ফুটফুটে সেই কিশোরীর নাম উপমা। প্রথম সন্তান, অনেক আদরের। উজানপুর গ্রামে তার জন্ম। মেয়ে জন্মেছে শুনেই গ্রামের ঠোঁটকাটা লোকজন কানাঘুষা করতে থাকে। এমনকি তার দাদী পর্যন্ত উপমার মাকে বলে যে, মেয়ে জন্ম দেয়ার চেয়ে তার মরে যাওয়াই ভালো ছিলো। তার বাবা মা অবশ্য তাকে নিয়েই খুশি ছিলো। হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও তাকে পড়াশোনা করাতে চেয়েছে। এ নিয়ে বেশ দ্বন্দ্বও হয়েছে। “মেয়েমানুষের পড়াশোনার দরকার কী, পড়ালেখা করালে মেয়ে খারাপ হয়ে যাবে” ইত্যাদি নানা অপ্রীতিকর কথা শোনার পরও সবার বিপক্ষে যেয়ে মেয়েকে শিক্ষিত করতে চেয়েছে। সে কথা ভাবলে এখনও উপমার মন কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। তার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে সে অনেক বড় হবে। ঢাকার এক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। এরপর চাকরি হলে বাবা-মা আর ছোট ভাইটাকে ঢাকায় নিয়ে যাবে। বাবাকে আর রোদে ঘেমেনেয়ে প্রতিদিন ওভাবে ক্ষেতে কাজ করতে দেবে না। কিন্তু সেসব স্বপ্ন ততদিনে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। সে আর তখন স্বপ্ন দেখে না। কারণ তার মনে হতো স্বপ্নগুলো শুধু হাতছানিই দিয়ে যাবে। পূরণ হওয়া নিতান্তই অসম্ভব। সে তখন সবে মাত্র ক্লাস টেনে উঠেছে। প্রাণবন্ত, উচ্ছল এক মেয়ে। লম্বা ফ্রক গায়ে, লাল ফিতে দিয়ে দুই বিনুনি বেঁধে রোজ স্কুলে যেতো এক মাইল পথ হেঁটে। দুপুর নাগাদ ক্লাস শেষ হয়ে গেলে বন্ধুদের সঙ্গে কানামাছি, গোল্লাছুট খেলা তার নিত্যদিনের রুটিন ছিলো। দেরি হওয়ায় মায়ের বকুনিটাও বাদ যেতো না কখনো। বকুনি খেয়েও দমে যেতো না সে। বরং, মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে ভালো মেয়ের মতো ক্ষমা চাইতো। মেয়ের নিষ্পাপ চেহারায় মায়াবী চোখ দুটো দেখেই বিগলিত হয়ে যেতেন মা। তাগাদা দিতেন গরম ভাত আর আলু ভর্তা দিয়ে দু’মুঠো খেয়ে নিতে। একদিকে মায়ের অফুরান ভালোবাসা আর বাবার কাছে যত আবদার করতো উপমা। ঘর্মাক্ত বাবা যখন সন্ধ্যা নাগাদ ঘরে ফিরতেন, পরদিন দোকানে নিয়ে খেলনা কিংবা চিপস কিনে দেয়ার আবদার জুড়ে দিত সে। বাবা ক্লান্ত হাসি দিয়ে সেই আবদার মেনে নিতেন। এভাবেই কাটছিলো সময়… কিন্তু হঠাৎ তার এই ছোট্ট জীবনেই নেমে এলো ঘোর বিপদ। সে একদিন স্কুলে যাচ্ছিল। পাগলি বাড়ির জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের মাতবরের ছেলে মিনহাজ তার পথ আগলে দাঁড়ায়। ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে উপমার। এমনিতেই ভয়ানক গুন্ডা হিসেবে পরিচিতি আছে ছেলেটির। লোকমুখে শোনা যায়, সে নাকি দুই তিনটে খুনও করেছে। তার ওপর চেহারায় কেমন যেন একটা হিংস্র ছাপ। উপমা কোনোরকমে বলে ওঠে, “কিছু বলবেন, ভাইজান?” লোলুপ দৃষ্টিতে তাকানো মিনহাজ বলে, “তুই অনেক সুন্দর হইয়া গেছোস রে উপমা! আমারে বিয়া করবি?” কথাগুলো শুনে আতঙ্কে উপমার বুকে কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। সে কোনোরকমে ঢোঁক গিলে বলে, “এসব কী বলতেছেন ভাইজান? আমি আপনের বইনের মতো। আর আমিতো এহনও অনেক ছোট।” “ছোট বড়তে কিছু হইবো না। তোরে আমার মনে ধরছে। তোরেই বিয়া করুম।” সেদিন কোনোরকমে ছুটে পালিয়েছিলো উপমা। চিন্তা করবে বলে মা-বাবাকে কিছু জানায়নি সে। কিন্তু মিনহাজের উৎপাত দিনে দিনে বাড়তে লাগলো। একদিন তো রীতিমতো হাত ধরে টেনে নিতে চাচ্ছিলো জঙ্গলে। বাড়ির পাশের সালেহ্ চাচা দেখতে পেয়ে বাঁচায় সেদিন। তখন আর বাড়িতে জানতে বাকি থাকে না। মা-বাবা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কিছুদিনের জন্যে উপমার বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ওদিকে মাতবরের ছেলেও অত সহজে দমবার নয়। মাতবরকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় তার বাড়িতে। কিন্তু উপমার বাবা এক কথায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেন। মেয়ের বয়স অল্প হলেও সে রাজি হতো। কেননা, ওদিকটায় ওই বয়সী মেয়ের অহরহ বিয়ে হয়। কিন্তু তাই বলে মিনহাজের মতো এক সন্ত্রাসীর হাতে তো মেয়েকে তুলে দিতে পারে না! সে সাফ মানা করে দেয় সেই প্রস্তাবে। কিন্তু ছেলের চেয়ে বাবাও নেহাৎ কম ভয়ানক নয়। উপমার বাবাকে মাতবর শাসিয়ে যায় মেয়েকে দেখে নিবে বলে! এই হুমকির পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা উপমার পরিবারের অজ্ঞাত নয়। তাই দেরি না করে সেদিন রাতেই এক নৌকা ভাড়া করে উপমাকে পাশের গ্রামে তার খালার বাড়িতে রেখে আসা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তাকে নিয়ে আসবে ভেবেছিলো। কিন্তু, উপমাকে না পেয়ে মাতবরের ছেলে এতটাই মরিয়া হয়ে ওঠে যে, খোঁজ খবর নিয়ে তার খালার বাড়ি অব্দি পৌঁছে যায় এবং তাকে তুলে নিয়ে যাবে বলে হুমকি দেয়। এই বেসামাল পরিস্থিতিতে উপমার খালা এক উপায় বের করে। তাদের গ্রামের আজহার মোল্লার ছেলে রফিক মোল্লার সাথে উপমার বিয়ে ঠিক করে। বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। বেঁটে এবং কালো হলেও অঢেল টাকা-পয়সার মালিক সে। আট বছর কুয়েতে ছিলো। এখন ঢাকায় বাড়ি কিনেছে। বিয়ের পর উপমাকে ওখানে নিয়েই রাখবে। বছর খানেক আগে দেশে এসে একবার দেখেছিলো উপমাকে। তখনই বিয়ের জন্যে বলেছিলো। তবে উপমার জেদে সেটা আর সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার এই নেতিবাচক পরিস্থিতিতে পরিবারের লোকদের সরল আকুতিতে তার বাধ্য হয়ে মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। ফলে বিয়ে হয়ে যায় বাবার বয়সী একজন লোকের সাথে। তারা ঢাকায় চলে আসে। পনের বছর বয়সী একটা বাচ্চা মেয়ে পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করে। মানিয়ে নিতে চায় এত দায়িত্বের ভীড়ে। সারাদিন ঘরের কাজ করেই কেটে যায়। তার স্বামীকে অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও কলেজে ভর্তি করায়নি। ভাগ্যকে মেনে নিয়েই তাই সংসারে মনোনিবেশ করতে চায় সে। প্রথম প্রথম তার স্বামী তাকে ভালোবাসা, যত্নে ভরিয়ে রাখলেও চার মাস গড়াতে না গড়াতেই কেমন যেন হয়ে ওঠে সে। ভালোবাসা ধীরে ধীরে পশুত্বে পরিণত হয়। সারাদিন কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পর রূঢ় আচরণ করে। খাবার ভালো হয়নি বলে মুখে ছুঁড়ে মারে। সারাদিনের হাজারটা কথা যে জমিয়ে রেখেছে নিজের ভেতর, কাউকে বলার তাড়নায় ছটফট করেছে, সেই কথাগুলো নিজের ভেতরই হারিয়ে যায় উপমার। প্রচণ্ড অসহায় অনুভব করে সে। সারাদিনের কাজ সামলানোর পর অতটুকুন ক্লান্ত দেহটা যখন বিছানায় এলিয়ে পড়ে, তখন সেই মানুষটা হিংস্র পশুর মতো তার শরীর খুবলে খায়। বিন্দুমাত্র ভালোবাসা কিংবা আবেগ থাকে না সেখানে। এতসব কিছুর পরেও উপমা মুখ বুঁজে সব মেনে নিচ্ছিলো। “স্বামীরা হয়তো এমনই হয়” এরূপ বদ্ধ ধারণা নিয়া সংসার করে যাচ্ছিল। পড়ালেখার স্বপ্ন ততদিনে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ যখন সেই ঝড়ের রাতে স্বামীর পরকীয়ার বিষয়টি তার সামনে এলো, সে আর ঠিক থাকতে পারেনি।
তখন বাংলার নতুন কোর্স শুরু হয়েছে তাদের। যেই শিক্ষক ক্লাস নিতেন, তার নাম জাহিদ আহমেদ। বয়স চল্লিশোর্ধ। কবিতার ক্লাসগুলো বেশ জটিল লাগতো উপমার। রবীন্দ্রনাথের কবিতা পড়ানোর সময় মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনে যেতো। কবিতার ভেতর প্রেম, অনুরাগ, চেতনার বিষয়গুলো তাকে বেশ ভাবিয়ে তুলতো। উপমার মনে হতো শিক্ষকও হয়তো সেটা লক্ষ করেছেন। তাই মাঝে মাঝেই তার দিকে তাকিয়ে বিষয়গুলো আরও বিশ্লেষণ করে দিতেন তিনি। তাতে শিক্ষকের প্রতি এক প্রকার কৃতজ্ঞতা বোধ জেগে উঠতো উপমার। একদিন করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় জাহিদ আহমেদের সাথে দেখা হতেই সালাম দিল সে। মনে হলো তিনি খানিকটা হকচকিয়ে গিয়েছেন। ভার্সিটিতে উঠে ছেলেমেয়েরা সাধারণত বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সালাম দেয়া দূরে থাক, ক্লাসের বাইরে দেখা হলে না দেখার ভান করেই চলে যায় সাধারণত। সেখানে মেয়েটি তাকে দেখে দাঁড়িয়ে গিয়ে সালাম দিল! বেশ কয়েকদিন এমনটা হওয়ার পর জাহিদ আহমেদ একদিন ক্লাসের বাইরে তাকে বললেন তার রুমে গিয়ে দেখা করতে। উপমা দেখা করতে গেলে জাহিদ আহমেদ তাকে বলে, “আমি বেশ অবাক হয়েছি তোমার ব্যবহারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত এতটা সম্মান দেয় না ছেলেমেয়েরা। তোমায় দেখে মনে হলো ব্যতিক্রম সবার থেকে। আমি খেয়াল করেছি, ক্লাসেও বেশ মনোযোগী তুমি। তোমার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানলাম এ শহরের স্থানীয় নও তুমি। তাই হয়তো এতটা আদর্শ রয়েছে। যাই হোক, কোনো পড়া বুঝতে সমস্যা হলে আমার এখানে আসবে। আমি সানন্দে তোমায় সাহায্য করবো। একটুও অস্বস্তি বোধ করবে না, কেমন?” উপমা কৃতজ্ঞতার সাথে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিল। এরপর প্রায়ই এভাবে জাহিদ আহমেদ তার রুমে ডেকে উপমার পড়াশোনার খোঁজ নিতেন। কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে উপমা প্রশ্ন করতো। জাহিদ আহমেদ সেটা তাকে বুঝিয়ে দিতেন। কিন্তু একটা সময় উপমার মনে হতে লাগলো স্যারের আচরণে কেমন যেন পরিবর্তন এসেছে। পড়ার বিষয়ের বাইরেও তিনি ব্যক্তিগত অনেক কথা বলতে লাগলেন। কবিতা পড়ানোর সময় যেন তার নিজস্ব আকুতি প্রকাশ করতে চাইতেন। তারপর একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে তাকে নোংরা ইঙ্গিত দেন ওই শিক্ষক। উপমা প্রথমে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। পরে তাতে অমত জানাতেই পরীক্ষায় তাকে ফেল করিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়া হয়। আর তার লক্ষণ প্রকাশ হতে থাকে উপমা তাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করলেই। যে মানুষটাকে সে সর্বোচ্চ সম্মানের আসনে বসিয়েছিলো, যার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভক্তির কোনো কার্পণ্য সে করেনি, তার মনে কীভাবে এমন ঘৃণ্য চিন্তার উদয় হতে পারে! সে সবার থেকে আলাদা গ্রাম থেকে আসা সরলমনা একজন; এটাই তার দোষ? অন্যরা হয়তো তার মতো অতটা বোকা নয় তাই তাদের ফাঁসানো যায়নি। তাই বলে তার অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এভাবে তাকে ছোট করা হল! কিছুই আর ভাবতে পারছিল না উপমা। পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসছিল। তার চিন্তা বাড়ছিল। স্যারের সেই ক্ষোভের প্রকাশ পরীক্ষার খাতায় আসবেই, সে ব্যাপারে উপমা সম্পূর্ণ নিশ্চিত। তাকে এত চিন্তিত দেখে সুদীপের অস্থিরতা কাজ করে। বারবার জিজ্ঞেস করার ফলে পুরো ঘটনাটা তাকে বলতে বাধ্য হয় উপমা। সব শুনে কেমন যেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সুদীপ। উপমাকে সাবধানে থাকতে বলে আর একটা ব্যবস্থা করবে বলে জানায় সে।
দুদিন বাদে সুদীপ ভার্সিটির কিছু রাজনৈতিক বড় ভাইদের নিয়ে আসে উপমার কাছে। তারা এক পরিকল্পনা আঁটে। উপমা সেদিন এক ফাঁকে জাহিদ আহমেদের রুমে যায়। তাকে দেখে বেশ অবাক হয়ে যান তিনি। মুহূর্তেই নোংরা এক হাসি দিয়ে প্রশ্ন করে, “যুবতীর দেহে কামের সঞ্চার হলো তবে?” কথাটা শুনে উপমার মাথায় যেন রক্ত উঠে গেলো। তবুও নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করে সে বললো, “স্যার আপনাকে অনেক শ্রদ্ধা করি আমি। শিক্ষক হিসেবে আপনার কি উচিৎ নয় সেটা রক্ষা করা?”
খ্যাকখ্যাক করে কিছুক্ষণ হাসার পর জাহিদ আহমেদ বললেন, “নিজের প্রয়োজনে এরকম অনেক কিছুই করতে হয় যেটা হয়তো অপ্রত্যাশিত মনে হয়। কিন্তু এটা আমরা দুজনেই উপভোগ করবো। আবার, তোমার পরীক্ষায় যাতে ভালো নাম্বার আসে, সে দিকটাও দেখবো। আর না করলে যে, তার পরিণতি কী হবে, তা পরীক্ষার ফল দেখলেই বুঝবে। এখন এসব বাদ দাও। চলো আমরা সময়টাকে উপভোগ্য করে তুলি।” কথাটা শেষ হতে না হতেই দরজা ধাক্কা দিয়ে সুদীপ এবং বাকি ছেলেরা ঢুকে পড়ে। জাহিদ আহমেদ ঘটনার আকস্মিকতায় বিচলিত হয়ে পড়েন। ভার্সিটির সিনিয়র এক ছেলে বলে, “তাহলে এসবই করেন আপনি? আমাকেতো চেনেনই। রাজনীতি করিতো বেশ অনেকদিন। কতটুকু করার ক্ষমতা রাখি জানেন নিশ্চয়ই? ফোনে আপনার সকল কথা রেকর্ড করেছি। এবার এসব প্রচার হলে আপনার কী অবস্থা হবে অজানা নয় আশা করি।” জাহিদ আহমেদ এবার বিড়ালের মত হয়ে যান। হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে আকুতি করে “দয়া করে এসব কাউকে জানিও না। আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। আর কখনও এমন হবে না কথা দিচ্ছি।” “কথাটা যেন মনে থাকে, স্যার। নাহলে ভুলে যাবো যে, আপনি আমাদের শিক্ষক। আর আমার এই বোনের উপর যেন কোনো দিক থেকে এর প্রভাব না পড়ে।” জাহিদ আহমেদ মাথা নিচু করে সায় জানাতেই তারা বেরিয়ে আসে। উপমা এখন অনেকটাই নির্ভার।
জাহিদ আহমেদ তার কথা রেখেছিলো। সে আর কোনোভাবে সমস্যার সৃষ্টি করেনি। উপমা ক্লাসে প্রথম হওয়ার পর সবাই তার সঙ্গে মিশতে শুরু করে। সে বুঝতে পারে, সুদীপ না থাকলে এসব কিছুই সম্ভব হতো না। উপমার পরিবারও তাকে নিয়ে খুশি এখন। সবকিছু মিলিয়ে অনিশ্চিত জীবনটাকে সে এখন গুছিয়ে নিয়েছে।
প্রতিটি সূর্যাস্তের সময় সুদীপের কাঁধে মাথা রেখে পাখিদের নীড়ে ফেরা দেখে সে। ঘরছাড়া পাখি ঘর বাঁধবার আশায় সুদীপের হাতটা আরও শক্ত করে ধরে উপমা।

Comments