নিশীথের ভাবনা

সবার কাছে নিজের অবস্হান, ক্ষমতা জাহির না করলেও কিছু মানুষের সামনে একটা পর্যায়ে তা করাটা অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ে। প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো বিষয়ে দুর্বলতা অথবা স্বল্প জ্ঞান থাকতেই পারে। তাই বলে সে সর্বদিক দিয়েই বা পূর্ণাঙ্গভাবেই একজন অযোগ্য মানুষ হয়ে যায় না। কিন্তু কিছুসংখ্যক মানুষের স্বভাবই হচ্ছে বারংবার আপনার দুর্বল দিক তুলে উপহাস করা, আপনাকে সাহস জোগানোর বদলে দিনের পর দিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা; যাতে আপনি নিজেকে একটাসময় নিছকই একজন অযোগ্য মানুষ হিসেবে ভাবতে এবং বিশ্বাস করতেও শুরু করবেন!
অল্পতেই আপনার এতটা মেকি প্রশংসা করবে যে আপনি তাদের বন্ধু ভাবতে শুরু করবেন। তবে সময়ের সাথে বুঝতে পারবেন, সেই প্রশংসার আড়ালে রয়েছে একরাশ অশুভকামনা! আপনি একদিকে তাদের দোষ আড়াল করতে ব্যস্ত হবেন, নমনীয় হবেন, আর আপনাকে তারা খুব কৌশলে প্রতিনিয়তই অন্যের সামনে অপদস্হ করবে ।
এই মানুষগুলোর অধিকাংশই ভীষণ উৎফুল্ল, সহজেই মানুষের সাথে মিশতে চায়। এদের মুখমুণ্ডল জুড়ে থাকে মিথ্যে ভালোমানুষির প্রলেপ দেয়া মুখোশ। আপনাকে প্রতিনিয়ত হেয় করার চেষ্টা করবে, কিন্তু সঙ্গ ছাড়বে না। কেননা, এটাই তাদের আত্মতৃপ্তির জোগান দেয় এবং অন্যের কাছে নিজেকে সর্বোত্তম হিসেবে প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। আর নির্দিষ্ট একটা বিষয়ে নিজেকে প্রথম দাবি করতে চাইলে দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা শেষের জন্যেও তো কারো স্হান বরাদ্দ করতে হবে ! তাই তারা তাদের সাথেই তাল মিলিয়ে চলতে চায়, যাদের দ্বারা কোনো না কোনো স্বার্থ হাসিল করা সম্ভব। আর তাদেরকেই ছোট করতে চায়, যারা পরিশ্রম দ্বারা উত্তম কিছু করার সম্ভাবনায় থাকে।
তবে সবকিছু ঠিক তখনই বদলে যাবে যখন আপনি আপনার যথার্থ অবস্হানকে প্রকাশ করবেন। এতদিনের নমনীয়তা বিনয় ছিলো, যা তারা অশ্রদ্ধা করলো! ফলাফলস্বরূপ, আপনিও যখন শক্তভাবে নিজের প্রাপ্য নিয়ে কথা বলতে শুরু করবেন , তখন তারা কিছু বলার আগে অন্তত দু’বার হলেও ভাববে।
স্বভাব তো খুব সহজে পরিবর্তন হবার নয় , তাই তৎক্ষণাই সেই গুটিকয়েক মানুষ আপনার মঙ্গল চাইতে শুরু করবে এমনটা নয় । তবুও অন্যের কাছে আপনাকে হেয় করার ক্ষণিক প্রশান্তি পেলেও আপনার লক্ষ্যার্জনে দীর্ঘস্হায়ী বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না!
